নবজাতক বা ছয় মাসের কম বয়সী (১ মাস, ২ মাস)- বাচ্চার সর্দি-কাশি হলে কি করবেন?

সবকিছু কেমন যেনো পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। আগে তো এমন ছিলো না। বাচ্চার সর্দি-কাশি লেগেই থাকে। আর সারলেও সহজে সারে না। প্রথমে সর্দি এরপরে কাশি। অনেকদিন ভোগার পর তারপরে সারে।

শীতের শুরুতে বা শীতকালে অধিকাংশ শিশু সিজনাল ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া বা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে ছোট্ট শিশুরা। নবজাতক বা ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের নানা কারণে শরীরে রোগ সংক্রমণ হতে পারে।

এ সময় অভিভাবককে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় কারণ তারা অনেক ভূল করে বসেন। আপনি সারারাত ফুল স্পীডে ফ্যান চালিয়ে রাখলেন বা ঠান্ডা বাতাস বইছে অথচ সারারাত জানালা খুলে রাখলেন।

ঠান্ডা যাতে না লাগে এজন্য গেঞ্জি বা শীতের পোষাক তো পরিয়েছেন আবার কাঁথা বা কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখলেন। এদিকে বাচ্চা ঘেঁমে গেঞ্জি ভিঁজে গাঁ ঠান্ডা হয়ে গেছে, আপনি তো ঘুমে বিভোর।

বাচ্চার বয়স এক মাস বা দুই মাস বা ধরুন পাঁচ মাস। শুধু বুকের দুধ খায়। এই অবস্থায় সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হলো। তিন দিন বা পাঁচ দিন হয়ে গেছে তারপরও কমে না। আপনি বাচ্চাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন।

ডাক্তার আপনাকে সিজনাল ফ্লুজনিত সমস্যা দূরীকরণে সিরাপ(যেমনঃ tofen) ও সাথে এন্টিবায়োটিক সিরাপ দিলেন। ছোট্ট বাচ্চারা ওষুধ যেমন খেতে চাই না তেমনি খাওয়ালেই যে তাড়াতাড়ি সেরে যাবে বিষয়টি তাও নয়।

ছয় মাসের কম বয়সী(১ মাস, ২ মাস) বাচ্চাদের ওষুধ খাওয়ানো অতো সোজা কাজ নয়। বাচ্চা শুধু বুকের দুধ টেনে খায়। আপনি যতই ড্রপার দিয়ে ভিতরে মাড়িতে দেন না কেনো মুখ থেকে বের করে দিবে। খুব সামান্য গিলবে। পুরোটাও গিলতে পারে তিনবারে একবার।

এছাড়া এক মাস বা দুই মাস বয়সী বাচ্চারা বমি করে বের করে দেয়। এছাড়া ভুল করে দুধ খাওয়ার পরে ঢেকুর না তুলে ও কিছুক্ষণ দেরি (৩০মিনিট) না করে যদি এন্টিবায়োটিক সিরাপ দেন তাহলে দুধসহ নাক মুখ দিয়ে বমি করে একাকার করে দিবে। তাই সাবধান।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাচ্চা যদি ঠিকমতো বুকের দুধ পায় তাহলে কিছুদিন ভোগার পর আস্তে আস্তে এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়। সাথে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পরিষ্কার পরিছন্নতা অর্থাৎ উষ্ণ গরম জল দিয়ে স্নান বা গোসল।

নবজাতক বা ছয় মাসের কম বয়সী (১ মাস, ২ মাস)- বাচ্চার সর্দি-কাশি হলে করণীয়:

নবজাতক বা ছয় মাসের কম বয়সী (১ মাস, ২ মাস)- বাচ্চার সর্দি-কাশি হলে করণীয় অনেক কিছুই হতে পারে। তবে সবথেকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে বুকের দুধ।

বুকের দুধ:

নবজাতকের জন্য এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এটি সম্পূর্ণ আলাদা সব পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। তা শিশুদের যে কোনো রোগবালাইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। শিশুর ৬ মাস পর্যন্ত বুকের দুধই সর্বরোগের ওষুধ।

বুকের দুধে অ্যান্টিবডি রয়েছে যা আপনার শিশুকে ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। বুকের দুধ খাওয়ালে আপনার শিশুর হাঁপানি বা অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি কমে। এছাড়াও, যেসব শিশুকে প্রথম 6 মাস একচেটিয়াভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো হয়, কোনো ফর্মুলা ছাড়াই, তাদের কানের সংক্রমণ, শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা এবং ডায়রিয়া কম হয়।

বুকের দুধ সবচেয়ে ভালো দুধ। বুকের দুধে থাকা পুষ্টিগুণ আপনার শিশুর প্রথম যে কোনো খাবারের সাথে অতুলনীয়। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বুকের দুধ একটি শক্তিশালী অসুস্থতা প্রতিরোধকারী খাবার।এটি শিশুর পেটের ভারসাম্য বজায় রাখে। বুকের দুধ সহজে হজম হয়।

বিশ্রাম:

বিশ্রাম সকল রোগের মহৌষধ। শিশুদের যে কোনো রোগের প্রধান চিকিৎসা হলো সব সময় বিশ্রামে রাখা। অসুস্থ্য হলে শান্ত ও কোলাহলমুক্ত স্থানে রাখা এবং সব সময় খেয়াল রাখতে হবে কেউ যেন তাকে বিরক্ত না করে। শিশুকে শান্ত রাখার উপায় ঘুম পাড়িয়ে রাখা। তবে অসুস্থ্য শিশুকে একা রাখবেন না। সব সময় পাশে একজনকে রাখবেন।

স্পঞ্জ স্নান বা উষ্ণ গরম জল দিয়ে স্নান বা গোসল:

কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করালে বা স্পঞ্জ গোসল করালে শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে জ্বর ভালো হয়ে যায়। এতে তারা শরীরে আরামবোধ করে এবং ভালোভাবে ঘুমাতে পারে। আর ঠান্ডা বা সর্দি-কাশির কারণে জ্বর হলে নবজাতককে দিনে ২-৩ বার স্পঞ্জ ও ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। তবে বেশি ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা যাবে না।

অন্যান্য কিছু টিপস:

কীলক ব্যবহার করুন এবং মাথা উঁচু করে রাখুন। স্যালাইন ড্রপ শ্লেষ্মা আলগা করতে সহায়ক হতে পারে। শ্লেষ্মা অপসারণের জন্য বাল্ব সিরিঞ্জ রাখুন।
একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন। রুমে ফ্রেশ বা তাজা বাতাসের ব্যবস্থা রাখুন। কোলে নিয়ে মাঝে মাঝে বাইরে প্রকৃতির কোলে হাঁটাহাঁটি করুন। তাদের উষ্ণ রাখুন এবং কাপড় চোপড় ধুয়ে রোদে শুকিয়ে বাচ্চাকে পরিধান করান।

অনেকে বিভিন্ন রকম তেল ও অন্যান্য উপাদান যেমনঃ সরিষার তেল, কালোজিরা তেল, রসুন দিয়ে তৈরি তেল ইত্যাদি মালিশ করেন। বাচ্চাকে সকালের নরম রোদে রেখে তেল মালিশ করা ভাল।

ভয় পাবেন না। উতলা হবেন না। অবস্থা বেগতিক হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।