তেজপাতা হজমে সহায়ক ও ব্যথা উপশমে খুব কার্যকরী।

সুবন্ধী মসলার মধ্যে এটি একটি। তেজপাতাকে আমরা ফোঁড়ন হিসাবে ব্যবহার করে থাকি। খুবই সুমিষ্ট মন মাতানো একটি ঘ্রান রয়েছে তেজপাতায়। বাঙালি রান্না ঘরে আলাদা একটি কদর রয়েছে এটির। তেজপাতার বৈজ্ঞানিক নামঃ Cinnamomum tamala এছাড়া একে ইন্ডিয়ান Bay Leaf ও বলা হয়। পায়েস, বিরিয়ানি, পোলাও, তরকারী, মাংস, মাছ রান্নায়, ডাল সবধরণের রান্নায় তেজপাতা আলাদা একটি মাত্রা যোগ করে। এমনকি তেজপাতার চা আমাদের শরীরকে একটা ঝরঝরে অনুভূতি দেয়।

মশালার পাশাপাশি আয়ুর্বেদেও এর ঔষুধ হিসাবে কদর রয়েছে। তেজপাতা হজম এনজাইমগুলিকে উদ্দীপিত করে, যা খাদ্য হজমে উন্নতি করতে সহায়তা করে। এটি গ্যাস গঠন, পেট ফাঁপা, পেটে ব্যথা, বদহজম, ডায়রিয়া, সাধারণ সর্দি এবং হাঁপানি হ্রাস করে। আয়ুর্বেদে, তেজপাতা শরীরে AMA টক্সিন হ্রাস করতে পারে।

তেজপাতার উপকারীতা

প্রাকৃতিক সবধরণের খাবারেই উপকারীতা রয়েছে। ঠিক তেমনি তেজপাতারও কিছু উপকারী দিক রয়েছে। নিচে সেগুলো দেওয়া হলো –

চুলের বৃদ্ধি:

চুলের যত্নে তেজপাতা বেশ কার্যকরী। কয়েকটি তেজপাতা পানিতে দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। তারপর ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এবার এ পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এটি কার্যকরভাবে চুলের বৃদ্ধি করে ও খুশকি দূর করবে। এছাড়া মাথার উকুন দূর করতেও সাহায্য করে।

হজমে সাহায্য করে:

তেজপাতা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং বদহজম (ফাঁপা বা গ্যাস) সম্পর্কিত সকল সমস্যা দূর করতে পারে। গরম পানির সাথে তেজপাতা বা তেজপাতা চা পান করতে পারেন। এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করে দেয়। অনেক সময় শরীর জটিল প্রোটিন সহজে হজম করতে পারে না, তেজপাতায় বিদ্যমান এনজাইম সেগুলোকে সঠিকভাবে পরিপাক করতে সাহায্য করে। বদহজম এবং পেট ফাঁপা বা গ্যাসের ক্ষেত্রে, তেজপাতা ও এক টুকরো আদা একত্রে ১ কাপ পানিতে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। ফুটানো হয়ে গেলে পানিটা ছেঁকে নিয়ে তাতে কিছুটা মধু যোগ করে দিনে দুবার পান করুন।

খুশখুশি কাশি দূর করে:

আপনি যদি ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হন ও কাঁশির সমস্যায় ভোগেন তাহলে ব্যাকটেরিয়া তাড়াতে তেজপাতা আপনাকে চমৎকারভাবে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে তেজপাতা চা বা তেজপাতা পানিতে দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে সাথে একটু মধু খেতে পারেন।

ব্যথা উপশমে কার্যকর:

তেজপাতার অন্যতম গুণ হলো এটি ব্যথা হ্রাস করতে পারে। তেজপাতার অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য মাথা ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা, বাতের ব্যথা হ্রাস করতে সহায়তা করে।

স্ট্রেস হরমোন হ্রাস করতে পারে:

তেজপাতার মধ্যে রয়েছে লিনালুল নামক উপাদান। লিনালুল যা আমাদের শরীরের স্ট্রেস হরমোন হ্রাস করে। আমাদের দেহে অতিরিক্ত স্ট্রেস হরমোন স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। তেজপাতা উচ্চ-উদ্বেগের মুহুর্তগুলি শান্ত হতে এবং স্বস্তিতে থাকতে সহায়তা করে।

ক্ষত নিরাময় করে:

বিভিন্ন ধরনের ক্ষত নিরাময়ে তেজপাতা অতুলনীয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।

তলপেটে ব্যথা এবং শ্বাসনালীর চিকিৎসায়:

তেজপাতায় এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা তলপেটে ব্যথা এবং শ্বাসনালীর চিকিৎসা করতে সহায়তা করে। পেটে জমে থাকা গ্যাসের কারণে ব্যথা থাকলে এটি বেশি কার্যকর হয়।

গর্ভপাত রোধ করে:

আয়ুর্বেদিক ঔষুধে দুর্বল জরায়ুসহ মহিলাদের গর্ভপাত রোধ করতে এটি ব্যবহৃত হয়। এটি জরায়ু পেশী শক্তি বৃদ্ধি করে।

বুকের দুধ বৃদ্ধিতে:

তেজপাতায় এমন কিছু উপাদান যা বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এটি মা এবং শিশু উভয়ের জন্য যথেষ্ট নিরাপদ।

মাড়ির জন্য ভালো ও ঘামাচি দূর করে:

মাড়ির ক্ষত দূর করেতে তেজপাতা খুবই কার্যকরী। এছাড়া ঘামাচিও দূর করে। গরমে ঘামাচি খুবই বিরক্তিকর। ঘামাচি থেকে রেহাই পেতে বেশ কয়েকটি তেজপাতা নিয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে। তারপর ঠান্ডা করে সেই পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। এতে উপকার পাবেন। এর বাকল থেকে যে সুগন্ধি তেল পাওয়া যায় তা সাবান তৈরিতে কাজে লাগে।

আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

Share