ড্রাগন ফল ওজন কমায়, হার্ট ভালো রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

ড্রাগন ফল বিদেশী হলেও দিনে দিনে জনপ্রিয়তা বাড়ছে আমাদের দেশে। দেখতে যেমন খুবই লভনীয় খেতেও তেমনি সুস্বাদু। ফলটির গায়ের রং গাঢ় গোলাপী। এই ফলটির ভিতরটা সাদা তবে গোলাপি রঙেরও হয়। আর ভিতের থাকে ছোট ছোট কালো রঙের বীজ। ড্রাগন ফল সহজলভ্য না হওয়ায় দাম একটু বেশি।

ইংরেজি নাম Dragon Fruit, Pitaya, pitahaya, and strawberry pear এবং বৈজ্ঞানিক নাম Hylocereus undatus. এতে ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে তাই ‘ডায়েট’ এর জন্য উত্তম।

ড্রাগন ফলে প্রচুর ভিটামিন-সি রয়েছে ফলে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া পিচ্ছিল হওয়ায় ও ফাইবার থাকার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূর হয়। ড্রাগন ফলের কালো বীজ হজমে সাহায্য করে। আয়রন থাকার কারণে ড্রাগন ফল খেলে রক্তশূন্যতা দূর হয়।

ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগীরা অনায়াসে খেতে পারেন ড্রাগন ফল।

ড্রাগন ফলের তিনটি প্রজাতি রয়েছে গাঢ় গোলাপী ড্রাগন ফল ভিতরে সাদা, হলুদ ড্রাগন ফল এবং খোসা ও শাঁসের গাঢ় গোলাপী। গাঢ় গোলাপী ড্রাগন ফল ভিতরে সাদা। ড্রাগন ফল গাছে ফুল ফোটে রাতে।

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ

ড্রাগন ফলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ নিচে দেওয়া হলো।

  • ক্যালোরি: ১৩৬
  • প্রোটিন: ৩ গ্রাম
  • ফ্যাট: ০ গ্রাম
  • কার্বোহাইড্রেট: ২৯ গ্রাম
  • ফাইবার: ৭ গ্রাম
  • আয়রন: ৮%
  • ম্যাগনেসিয়াম:১৮%
  • ভিটামিন “সি”: ৯%
  • ভিটামিন “ই”: ৪%

ড্রাগন ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা

ড্রাগন ফল আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। ড্রাগন ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা নিচে আলোচনা করা হলো –

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে:

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন হবে তা আমাদের খাদ্যাভাসের ও লাইফস্টাইলের উপর নির্ভর করে। ড্রাগন ফল আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

কারণ ড্রাগন ফলে ভিটামিন “সি” এবং ক্যারোটিনয়েড রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। এটি শ্বেত রক্তকণাকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করে সংক্রমণ রোধ করতে পারে।

আয়রনের উৎস:

ড্রাগন ফল আয়রনের একটি ভালো উৎস। এই ফলটিতে প্রতি ২২৭ গ্রামে ৮% আয়রন থাকে। আয়রন সারা শরীর জুড়ে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এছাড়া আয়রন খাদ্যকে শক্তিতে ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ড্রাগন ফলে ভিটামিন “সি” রয়েছে যা শরীরকে আয়রন শোষণে সহায়তা করে।

ম্যাগনেসিয়ামের ভাল উৎস:

এক কাপ ড্রাগন ফলে ১৮% ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা অধিকাংশ ফলের তুলনায় বেশি। ম্যাগনেসিয়াম প্রতিটি কোষে উপস্থিত থাকে এবং আমাদের দেহের মধ্যে ৬০০ টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয়।

উদাহরণস্বরূপ, খাদ্যকে ভেঙে শক্তিতে রূপান্তরিত করে, পেশী সংকোচন, হাড়ের গঠন এবং ডিএনএ (DNA) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিক্রিয়া গুলিতে অংশ নেয়। কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, ম্যাগনেসিয়ামের বেশি পরিমাণে গ্রহণের ফলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

ফাইবারের উৎস:

ড্রাগন ফল ডায়েট্রি ফাইবারের একটি ভালো উৎস। মহিলাদের জন্য প্রতিদিন ২৫ গ্রাম ফাইবার এবং পুরুষদের জন্য প্রতিদিন ৩৮ গ্রাম ফাইবার প্রয়োজন হয়। এক কাপ ড্রাগন ফলে ৭ গ্রাম ফাইবার থাকে। যা প্রতিদিনের ফাইবারের চাহিদার প্রায় অর্ধেকটা পূরণ করতে পারে।

গবেষণাটি পরামর্শ দিয়েছে যে, ফাইবার হজম স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে, হার্টের রোগ থেকে রক্ষা করতে, টাইপ-2 ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ ডায়েট কোলন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে রক্ষা করতে পারে।

পরিপাকতন্ত্র ভালো রাখে:

আমাদের অন্ত্রে ৪০০ টিরও বেশি প্রজাতির ব্যাকটিরিয়া থাকে। ড্রাগন ফলে প্রাক-জৈবিক উপাদান রয়েছে, যা অন্ত্রের ভাল ব্যাক্টেরিয়াদের ভারসাম্যকে উন্নত করতে পারে। এটি স্বাস্থ্যকর ব্যাকটিরিয়ার মধ্যে দুটি ব্যাকটিরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে যেমন: ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটিরিয়া এবং বিফিডোব্যাকটেরিয়া।

সতর্কতা:

আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই খাওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

রেফারেন্স:

Share