ঝিঙা শরীর ঠান্ডা রাখে, সহজে হজম হয় ও কোষ্টকাঠিন্য দূর করে।

গঠন লম্বাটে অর্থাৎ দীর্ঘায়িত, নলাকার সবজি। গায়ে দৈর্ঘ্য বরাবর পাশাপাশি খাঁজকাটা দাগ থাকে এবং বাহিরের আবরণ খসখসে। ফুল ফোটে বিকালে। কি বন্ধুরা, বুঝতে পেরেছেন? অনেকেই পেরেছেন। আমি মধ্যে ও পূর্ব এশিয়ার তথা ভারতীয় উপমহাদেশের বেশ পরিচিত একটি সবজি ঝিঙা বা Ridge gourd-এর কথা বলছি।

ঝিঙা বোটার দিকে সরু মাঝখানটা মোটা এবং ক্রমশ সরু হয়ে শেষ হয়।। এটি গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন সবজি। ঝিঙা সাধারণত দুই প্রজাতির হয়, যথা- luffa acutangula (কৌণিক ঝিঙা, শৈলশিরাময় ঝিঙা) এবং luffa aegyptiaca/Cylindrica  (মসৃণ ঝিঙা বা ধুন্দল). এটি একটি ফল যদিও আমরা এটিকে সবজি হিসাবে ব্যবহার করে থাকি।

এর উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Luffa acutangula। আর এটি Cucurbitaceae বর্গের অন্তর্গত। এটি রিজ গার্ড, স্পঞ্জ গার্ড, চাইনিজ ওকরা, সিল্ক অথবা সিল্কি গার্ড, লুফা বা fiberous ইত্যাদি নাম পরিচিত। এর সংস্কৃত নাম ধারা কোষাতকী, বাংলা নাম ঝিঙ্গা বা ঝিঙ্গে, হিন্দীতে ঝিমানি ও তামিলে ভেরিবিরা নামে পরিচিত।

ঝিঙার বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা:

ঝিঙা ফলটি শুধু নয় পুরো উদ্ভিদটিই উপকারী। ঝিঙা গাছের পাতা, ফুল ও ঝিঙার বীজেরও ওষধি গুণ রয়েছে।

ঝিঙার বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা নিচে আলোচনা করা হলো –

দৃষ্টি শক্তি বাড়ায়:

বিটা ক্যারোটিন আকারে, ঝিঙায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভিটামিন-এ থাকে, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে অবদান রাখে। এগুলি ম্যাকুলার অবক্ষয়, আংশিক অন্ধত্ব এবং চোখের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। একটি মূল্যবান অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হওয়ার কারণে, বিটা ক্যারোটিন অপটিক স্নায়ু এবং ভিজ্যুয়াল রক্তনালীগুলি উন্নত করে।

রক্তাল্পতা দূর করে:

প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় রক্তাল্পতা নিরাময়ে সহায়তা করে। এছাড়াও, ভিটামিন বি-6 প্রচুর পরিমাণে রয়েছে, যা আয়রনের পাশাপাশি দেহের লাল রক্ত ​​কোষের সংশ্লেষণে মূল ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, এটি শরীরের সমস্ত অঙ্গে রক্ত ​​প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে, ব্যথা এবং ক্লান্তির লক্ষণগুলি হ্রাস করে।

ওজন হ্রাস  করে:

শসা বা খিরাই এর মতো ঝিঙায় প্রচুর পরিমানে পানি রয়েছে। ফলটি আবার উচ্চ পরিমানে ফাইবার সমৃদ্ধ। তাই এটি আপনাকে পানি শুন্যতা থেকে রক্ষার পাশাপাশি আপনাকে পেটটাকে দীর্ঘক্ষণ ভরিয়ে রাখবে। ফলে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়া ঝিঙায় স্বল্প পরিমাণে ক্যালরি বিদ্যমান। এতে কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং কম কোলেস্টেরলের রয়েছে। ফলস্বরূপ, এটি খাওয়ার পরে তাৎক্ষণিকভাবে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং চর্বি হজমে সহায়তা করে এবং শরীরের টিস্যুগুলিতে চর্বিগুলির অতিরিক্ত জমে যাওয়া এড়াতে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো:

কোন খাবারগুলি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো? ক্যালোরি কম, ফাইবার বেশি। ঝিঙ্গায় এই দুইটি বৈশিষ্ট্য থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরা অনায়াসে ঝিঙ্গা খেতে পারেন। তদুপরি, ঝিঙায় থাকা পেপটাইড এবং ক্ষার জাতীয় ইনসুলিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে:

ঝিঙায় প্রচুর পরিমাণে জল রয়েছে। ঝিঙায় আঁশ বা ফাইবার থাকায় সহজে হজম হয় এবং কোষ্টকঠিন্য (শক্ত পায়খানা) দূর করে। সুতরাং, আপনি তরকারি বা ঘন্ট রান্না করে খান বা কিছুটা মধু দিয়ে এক গ্লাস রিজ গার্ড-এর রস পান করা সঙ্গে সঙ্গে পরিপাক তন্ত্রের স্বাভাবিক চাপ ও হজম ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয়।

হার্ট এটাক রোধে সাহায্য করে:

ঝিঙাতে থাকা ফোলেট হৃদরোগ বা হার্ট অ্যটাক প্রতিরো করে।

 লিভারে ভালো রাখে:

এটি লিভারের স্বাস্থ্য এবং পিত্ত ফাংশন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পিত্ত লিভারের একটি তরল নিঃসরণ যা লিপিড বা চর্বি ভাঙ্গতে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

ঝিঙা খাবার গ্রহণের ফলে এর ভিটামিন সি দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। এছাড়া ঝিঙাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম পাওয়া যায়। তাছাড়া অন্যান্য খাদ্য উপাদানও কম বেশি এতে রয়েছে।

ঝিঙার রাসায়নিক উপাদান:

ঝিঙায় লুফিন নামে এক প্রকার তিক্ত পদার্থ থাকে। ঝিঙার ফুল ও ফলে থাকে মুক্ত অ্যামাইনো এসিড, আরজেনিন গইসিন, লাইসিন, থিওনিন, এসপার জিন, লিউসিন। ঝিঙার বীজে থাকে ২০% স্যাপোনিন, গইকোসাইড, এনজাইম ও তিক্ত গসোসাইডিক উপাদান। ঝিঙার মূলে থাকে কিউচার বিটাসিন বি এবং সামান্য পরিমাণে সি থাকে।

সতর্কতা:

যা কিছু খাবেন পরিমাণমতো খাবেন। আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে খাবেন। অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। আপনি যদি কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হন বা নিয়মিত কোনো মেডিকেল কোর্স-এর ভেতর দিয়ে যান তাহলে খাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

সূত্র: netmeds, medindia.com, nutrition-and-you.com

Share