গরমে শরীর তরতাজা ও শীতল রাখবে যেসব শরবত।

গরমের দিনে এসময় শরীর ও মনে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেবে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত। প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি হরেক রকম শরবত পান করলে আপনার শরীরও থাকবে চাঙ্গা।

গরম কালের বিভিন্ন ধরনের ফল বাজারে উঠতে শুরু করেছে। যেমন বেল, তরমুজ, আনারস, লেবু উল্লেখযোগ্য। যেকোনো ফল দিয়েই বানিয়ে নিতে পারেন আপনার পছন্দের শরবত। প্রতিটি ফলের আছে নিজস্ব গুনাগুণ। ফলে শরবতেও পাবেন সেসব। তাই এটি আমাদের শরীরে পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ক্লান্তি কাটাতেও সাহায্য করে।

পুষ্টিবিদদের মতে পুষ্টিকর কিছু খেয়ে তৃষ্ণা মেটানো গেলে সবচেয়ে ভালো হয়। তাই তো শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক, গরমে শরীর চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করবে যেসব শরবত-

চকলেট মিল্কশেক:

ফুল ফ্যাট দুধ হচ্ছে এই মিল্কশেকের প্রধান উপাদান। চকলেট শেকের জন্য খুব ভালোমানের কোকো পাউডার বা চকোলেট সিরাপ অথবা গলানো চকোলেট নিন। তারপর এতে দুধ, সামান্য চিনি বা মধু, সামান্য দারচিনি, চকোলেট ব্লেন্ড করে নিন।

আম পাকা ও মিষ্টি হলে বাড়তি চিনি যোগ করার প্রয়োজন নেই, দুধের সঙ্গে ব্লেন্ড করে নিলেই চলবে। এটি গরমের দিনে আপনার শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করবে।

কাঁচা আমের শরবত:

কাঁচা আমের শরবত শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। কাঁচা আম পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে শাঁসটা বের করে নিয়ে চটকে নিন। সঙ্গে খানিকটা পুদিনা পাতার কুচিও মিশিয়ে দিন। সাধারণ লবণে বদলে বিটলবণ ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে যারা টক খেতে পারেন না তারা চিনি বা গুড় মিশিয়ে খেতে পারেন।

বেলের শরবত:

পাকা বেল গরমের সময় প্রচুর পাওয়া যায়। বেল আর দই দিয়ে তৈরি করুন চমৎকার শরবত। বেল চটকে দানা বাদ দিয়ে কেবল শাঁসটুকু বের করে নিন। তারপর দই, চিনি, সামান্য লবণ, লেবুর রস, ঠান্ডা পানি দিয়ে তৈরি করে ফেলুন মজাদার বেলের শরবত।

জামের শরবত:

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করতে করতে ঠান্ডা কিছু খেতে ইচ্ছে হয় নিশ্চয়ই? তাহলে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন ঠান্ডা জামের শরবত। এতে শরীর চাঙ্গা হবে এবং ঠাণ্ডা থাকবে।

প্রথমে জাম গুলোকে ভালো করে ধুয়ে এর ভেতরের বীজ ফেলে দিন তারপর এর মধ্যে কয়েক টুকরো বরফ, সামান্য একটু লবণ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি মজাদার জামের শরবত।

আখের রস:

গরমে শরীর চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি ডিহাইড্রেশন দূর করতে সাহায্য করে আখের রস। কার্যকরভাবে এবং সঠিকভাবে পানিশূন্যতা দূর করার জন্য ইলেক্ট্রোলাইটের প্রয়োজন হয়। পানির মধ্যে যদি খনিজ উপাদান থাকে তখন তাকে ইলেক্ট্রোলাইট বলা হয়।

আখে ৭০-৭৫% পানি এবং এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের খনিজ ও ভিটামিন যা পানিশূন্যতা দূর করার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করতে সাহায্য করে। খোসাহীন আখ টুকরো করে ব্লেন্ডারে পিষে ছেঁকে নিলেই তৈরি হবে সুস্বাদু আখের রস।

লাচ্চি:

গরমের দিনে এক গ্লাস লাচ্চি আপনাকে দীর্ঘ সময় ধরে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখে। এই মিষ্টি পানীয়টি আপনার দেহকে শীতল রাখে এবং গ্রীষ্মের ডিহাইড্রেশনের সমস্যাগুলি নিরাময় করে।

তোকমার শরবত:

তোকমা গরমকালে দেহের তাপমাত্রা কমিয়ে শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। আর এ কারণে গরম আবহাওয়ার দেশগুলোতে বহু মানুষ তোকমার শরবত পান করে। এছাড়া ঘর্মগ্রন্থিকে সচল রাখে। যাদের মূত্রনালির সমস্যা আছে তারা নিয়মিত তোকমা ভিজিয়ে খেলে মূত্রনালির সমস্যা দূর হয়ে যায়।

লেবুর শরবত:

অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ সকালে চা বা কফির বদলে এক গ্লাস লেবুর শরবত পান করার মাধ্যমে দিন শুরু করে থাকেন। এর এই শরবতটি খুব সহজেই ঘরে বসে তৈরি করা যায়। চিনি, লবণ এবং লেবুর রস দিয়ে সহজে এই শরবত তৈরি করা যায়। ইচ্ছে হলে অল্প পুদিনা পাতা কুচিও এতে দেওয়া যায়।

পুদিনা পাতার শরবত:

পুদিনা পাতা তার মেন্থল সামগ্রীর কারণে শীতল বৈশিষ্ট্যের জন্য খ্যাত। ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরকে চাঙ্গা রাখতে এক গ্লাস ঠান্ডা পুদিনা পাতার শরবতই হতে পারে একমাত্র সমাধান।

পুদিনা পাতা পরিষ্কার করে ধুয়ে এতে দুই গ্লাস পানি, সামান্য লবণ বা বিট লবণ, ভাজা জিরা গুঁড়া এক চা-চামচ, লেবুর রস এক টেবিল-চামচ, কাঁচা-মরিচ ১টি ও চিনি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দিয়ে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করুন। ছাঁকনিতে ছেঁকে নিয়ে গ্লাসে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন অথবা ফ্রিজে রেখেও পরিবেশন করতে পারেন।

কোল্ড কফি:

ফুল ফ্যাট দুধ, সামান্য চিনি আর কফি পাউডার বরফসহ ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে কোল্ড কফি। স্বাদ বাড়াতে এক চিমটে দারচিনি ও সামান্য ডার্ক চকোলেট পাউডার দিতে পারেন। এটি গরমের দিনে খুবই কার্যকরী একটি উপায়।

দই ও ঘোল:

দই ও ঘোল দিয়ে তৈরি খাবার দুপুরে খাওয়ার পর পান করলে খাবার দ্রুত হজম হয়। এটা শরীর আর্দ্র রাখার পাশাপাশি প্রোবায়োটিকেরও ভালো উৎস। ঘোল শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে। এতে ধনে এবং ভাজা জিরা মিশিয়ে স্বাদ বাড়ানো যায়।

শসার শরবত:

গরমে খাবারের তালিকায় শসা যোগ করে শরীর ঠাণ্ডা রাখা যায়। এটা আর্দ্রতা রক্ষা করে, অল্প ক্যালরি ও উচ্চ আঁশ সম্পন্ন। শরীর খুব বেশি উত্তপ্ত হলে এক গ্লাস ঠাণ্ডা শসার জুস খেয়ে নিন দ্রুত আরাম পাবেন।

শসার খোঁসা ছাড়িয়ে তা ছোট ছোট টুকরো করে এবং তাতে সামান্য একটু লবণ ও বরফ দিয়ে ব্লেন্ড করে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে শসার শরবত। পাশাপাশি পানিশূন্যতাও দূর করবে।

তরমুজের জুস:

গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রকৃতি যখন রুক্ষ হয়ে ওঠে তখন শীতলতার পরশ বুলিয়ে দিতে প্রকৃতিতে আবির্ভাব হয় তরমুজ, বাঙ্গির পাশাপাশি সহজলভ্য ফল পেঁপে। তরমুজ একটি প্রাকৃতিক শীতলকারক। গরমে শরীরকে শীতল রাখতে সহায়তা করে।

এটি কেবল শরীরকে হাইড্রেট করে না, অতিরিক্ত ঘামের কারণে নষ্ট হওয়া পুষ্টি এবং ইলেক্ট্রোলাইটগুলি পূরণে সহায়তা করে।

ডাবের পানি:

গরমের দিনে খুবই উপকারী হচ্ছে ডাবের পানি। ডাবের পানি সতেজ এবং একটি প্রাকৃতিকভাবে শীতল হয়। এতে আমাদের দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে যা গ্রীষ্মের উত্তাপের সাথে লড়াই করতে এবং দেহের তাপ হ্রাস করতে সহায়তা করে।

অতিরিক্ত গরমের ফলে শরীর ঘামের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পানি বের হয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। ডাবের পানি এই ডিহাইড্রেশন দূর করতে সাহায্য করে। ডাবের পানির সঙ্গে শাঁস ও বরফ একসঙ্গে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ডারে শরবত তৈরি হয়ে যাবে।

অ্যালোভেরা শরবত:

অ্যালোভেরা শরবত শরীরের তাপমাত্রা হ্রাস করতে সহায়তা করে। অ্যালোভেরা পাতা ১টি, জল ১ গ্লাস, বিট নুন ১ চামচ, গোলমরিচ গুঁড়ো ১/২ চামচ, মধু ৩ চামচ, বরফ প্রয়োজন অনুযায়ী। এরপর অ্যালোভেরার পাতা থেকে রস বা জেল বার করে নিন।

এবার জলের মধ্যে অ্যালোভেরার জেল, মধু, বিট নুন, গোলমরিচ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। বরফ কুচি করে দিন। ব্যাস। আপনার অ্যালোভেরার শরবত রেডি। রোজ সকালে উঠে এক গ্লাস খান। দেখবেন আপনার শরীর মন দুইই সুস্থ থাকছে।

রেফারেন্স: