ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?

প্রথমদিকে ধরা পড়লে ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য। ক্যান্সার ভয়াবহ মরণ রোগের নাম। এখনও পর্যন্ত এই রোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার রোগ সহজে ধরা পড়ে না। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দাবি, মারণব্যাধি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এর থেকে রক্ষা পাওয়া অনেকটাই সম্ভব।

অনেক কারণে ক্যান্সার হতে পারে যেমন ধূমপান ও প্রচুর অ্যালকোহল পান করার কারণে, খাদ্যাভ্যাসের কারণে এছাড়া উচ্চ সূর্যের এক্সপোজার ও জেনেটিক্স কারণেও ক্যান্সার হতে পারে।

ক্যান্সারের বিভিন্ন লক্ষণ রয়েছে। যেগুলো প্রথম পর্যায়ে দেখা দিলেই সাবধান হওয়া দরকার এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। চলুন জেনে নেয়া যাক ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে-

অন্ত্রের পরিবর্তন:

মাঝে মাঝে অন্ত্রের সমস্যাটি স্বাভাবিক তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্ত্রের পরিবর্তন কোলন বা মলদ্বার ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। কোলন বা মলদ্বার ক্যান্সার সম্মিলিতভাবে কলোরেক্টাল ক্যান্সার বলা হয়।

ঘন ঘন ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে, বিশেষত যদি হঠাৎ করে অন্ত্রের পরিবর্তন হয়। ঘন ঘন গ্যাস এবং পেটে ব্যথা নিয়েও এই সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে।

মলদ্বারে রক্তক্ষরণ:

মলদ্বারের রক্তক্ষরণ রেকটাল ক্যান্সারের (মলদ্বার ক্যান্সার) প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। রক্তক্ষরণ অব্যাহত থাকলে বা রক্ত ক্ষয়ের কারণে আপনার যদি আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা দেখা যায় তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

মূত্রথলির পরিবর্তন:

হটাৎ অস্বাভাবিক মূত্রথলির পরিবর্তন প্রোস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ। মূত্রথলির পরিবর্তন বয়সের সাথে সাথে বিকাশ লাভ করতে পারে। মূত্রত্যাগের সময় অন্ত্রে ব্যথা বা রক্তক্ষরণ মূত্রথলির ক্যান্সারের উপসর্গ। প্রোস্টেট ক্যান্সার ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

প্রস্রাবে রক্ত:

প্রস্রাবের সাথে যদি রক্ত থাকে তাহলে এটি আপনি এড়িয়ে যাবেন না। এটি মূত্রাশয়ের ক্যান্সারের একটি সাধারণ লক্ষণ। এই ধরণের ক্যান্সার ধূমপায়ীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। প্রস্রাবের সাথে রক্ত পড়া প্রোস্টাটাইটিস ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ এর কারণ হতে পারে।

ক্রমাগত পিঠে ব্যথা:

পিঠে ব্যথা একটি সাধারণ কারণ হলেও ক্রমাগত পিঠে ব্যথা মোটেও সাধারণ নয়। খুব কম লোকেরাই বুঝতে পারে যে ক্রমাগত পিঠে ব্যথা ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। ক্যান্সার আপনার দেহের অন্যান্য অংশে যেমন মেরুদণ্ডের হাড়ের মধ্যে ছড়িয়ে না যাওয়া পর্যন্ত বুঝতে পারা যায় না।

প্রোস্টেট ক্যান্সার বিশেষত হাড়গুলিতে ছড়িয়ে পড়ার পরে লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে। কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে শরীরের কোনো অংশে যদি ব্যথা হয় আর তাতে ওষুধেও যদি কাজ না করে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে ভাবনার যথেষ্ট কারণ আছে।

অস্বাভাবিক কাশি:

অবিরাম কাশি ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ। আপনার যদি অন্য কোন লক্ষণ না থাকে তাহলে জ্বর, কাশি বা সর্দি ভাইরাস বা সংক্রমণের কারণে হতে পারে। শ্লেষ্মার রক্ত এবং কাশি ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণে হতে পারে।

তাই ওষুধ খাবার পরও যদি কাশি না কমে বা কাশির কারণে বুক, পিঠ বা কাঁধে ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সামান্য কাশি ভেবে একেবারেই অবহেলা করা ভালো নয়।

অতিরিক্ত ক্লান্তি:

ক্লান্তি অনেকগুলি দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। ক্যান্সার কোষগুলি বৃদ্ধি করার সাথে সাথে শরীরটি খুব শরীর খুব খারাপ হতে থাকে। মলাশয়ের ক্যান্সার (colon cancer) বা রক্তে ক্যান্সার (blood cancer) হলে সাধারণত এমন উপসর্গ দেখা যায়। আপনার যদি অতিরিক্ত ক্লান্তি হয় যা রাতের ঘুমের পরে না যায় তবে আপনার ডাক্তারকে দেখুন।

ওজন হ্রাস:

হঠাৎ ওজন হ্রাস গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা নির্দেশ করতে পারে। কোনো কারণ ছাড়া হঠাৎ করেই দ্রুতগতিতে যদি ওজন কমতে থাকে তবে তা চিন্তার বিষয়। কারণ, এটি ক্যান্সারের অন্যতম উপসর্গ।

অকারণে ঘন ঘন জ্বর:

জ্বর সাধারণ বিষয় হলেও অনেক রোগের উপসর্গ হতে পারে। শরীরে ক্যান্সার জেঁকে বসলে স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এতে ঘন ঘন জ্বর হতে পারি। ব্ল্যাড ক্যান্সারেে ঘন ঘন জ্বর হয়। তাই জ্বর এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে বা অকারণে ঘন ঘন জ্বর হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড:

শরীরের কোনো অংশে অস্বাভাবিক কোনো মাংসপিণ্ডের উপস্থিতি দেখা দিলে বা মাংস জমাট হলে কিংবা এ ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্যণীয় হলে ক্যান্সারের উপসর্গ হতে পারে। এসব বিষয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মুখের ঘা:

জর্দা, গুল, সুপারি, ক্ষত, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ, অতিরিক্ত সূর্যের এক্সপোজার ওরাল ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত সূর্য এক্সপোজারে ঠোঁটের ক্ষতি হয়ে থাকে। আর এ কারণে ওরাল ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রাথমিক পর্যায়ে ওরাল ক্যান্সার মুখের মধ্যে বড় লাল ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি করতে পারে।

অকারণে রক্তক্ষরণ:

কাশির সময় যদি রক্তক্ষরণ হয় তাহলে এটি ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারি। এছাড়া মলদ্বার থেকে রক্তক্ষরণসহ এ ধরনের অন্যান্য অস্বাভাবিকতাও ক্যান্সারের উপসর্গ।

রেফারেন্স:
Share