কাগজি লেবু ওজন কমাতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ও কিডনি পাথর প্রতিরোধে দারুণ কার্যকরী।

লেবুকে বলা হয় ‘সুপার ফুড’। একজন মানুষের দৈনিক যে পরিমাণ ভিটামিন “সি” দরকার হয় তা একটি মাঝারি আকৃতির কাগজি লেবু থেকে পাওয়া যায়। মুখের রুচি বৃদ্ধিতে ও খাদ্য পরিপাক ক্রিয়ার কাগজি লেবু খুব কার্যকরী।

রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাগজি লেবু খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ লেবুতে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন “এ”, ভিটামিন “সি”, ভিটামিন “বি” কমপ্লেক্স, কার্বোহাইড্রেটস ও প্রোটিন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান।

কাগজি লেবু আমরা শরবত করেও খেতে পারি। কাগজি লেবুর শরবত স্বাস্থ্যের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। লেবুর শরবত পানিশূন্যতা রোধ করে এবং আমাদের প্রাণবন্ত ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

কাগজি লেবু ছাড়াও বাজারে নানা রকমের লেবু পাওয়া যায়। যেমন: গন্ধরাজ লেবু, বাতাবি লেবু, কমলালেবু, মৌসম্বি ইত্যাদি।

লেবু কি কিডনি পাথর প্রতিরোধে কার্যকরী?

হ্যাঁ, লেবু কিডনি পাথর প্রতিরোধে বেশ কর্যকরী। কারণ, সাইট্রিক এসিডের লবণ সাইট্রেট ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ পাথর গঠনে বাধা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিদিন আধা কাপ বা দুটি লেবুর রস পান করলে কিডনির পাথরের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

কাগজি লেবুর উপকারিতা:

ভিটামিন “সি” সমৃদ্ধ কাগজি লেবু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি। নিচে কাগজি লেবুর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

ওজন কমায়:

কাগজি লেবুতে থাকা ভিটামিন “সি” শরীরের বাড়তি চর্বি কমাতে এবং পেকটিন ফাইবার ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে উঠে পানির সাথে লেবুর রস, স্বাদমতো লবণ এবং মধু দিয়ে শরবত বানিয়ে খেলে সারাদিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

পেকটিন ফাইবার নামক এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। যার ফলে ওজন কমতে শুরু করবে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে:

কাগজি লেবুতে ভিটামিন “সি” প্রচুর পরিমাণে থাকে। ভিটামিন “সি” এমন একটি পুষ্টি যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া ভিটামিন “সি” শ্বেত রক্ত কোষের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে, যা আমাদের শরীরকে সংক্রমণ এবং রোগের বিরুদ্ধে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে:

ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে কাগজি লেবুর শরবত খেলে দেহের ভেতরে পি এইচ (PH) লেভেলের ভারসাম্য ঠিক থাকে। সুস্থ্য কর্মচঞ্চল জীবনের জন্য আমাদের রক্তে সর্বদা পি এইচ (PH) লেভেল ৭.৩৬৫ থাকা ভালো।

লেবুর মধ্যে থাকা সাইট্রিক এসিড রক্তের পি এইচ (PH) ব্যালান্স ঠিক রাখে। ফলে ভেতর এবং বাইরে থেকে শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে দেহের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না।

ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ায়:

কাগজি লেবু ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। হাজারো বিউটি প্রডাক্ট যা করে উঠতে পারেনি, তা লেবু করে ফেলতে পারে। লেবুতে থাকা ভিটামিন “সি” ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। সেই সঙ্গে বয়সের ছাপ কমানোর পাশাপাশি ব্ল্যাকহেডস এবং বলিরেখা কমাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কিডনি পাথর প্রতিরোধ করে:

লেবুর মধ্যে থাকা সাইট্রিক এসিড কিডনি পাথর প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। অনেক সময় কিডনিতে জমে থাকা পাথর ভাঙ্গতে সাহায্য করে। এমনকি লেবুতে উপস্থিত সাইট্রিক অ্যাসিড কিডনিতে ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ নামক পাথর গঠনে বাধা দেয়। ‘ক্যালসিয়াম অক্সালেট’ সবচেয়ে সাধারণ কিডনি পাথরগুলোর মধ্যে একটি।

এছাড়া লেবুতে বিদ্যমান সাইট্রিক এসিড কোলন, পিত্তথলি ও লিভার থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে লোকেরা বেশি পরিমাণে সাইট্রাস ফল খেয়েছিল তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কম ছিল।

মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়:

কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচা রসুন বা মাছ খাওয়ার পরে অনেক সময় মুখ থেকে তীব্র গন্ধ বের হয়। যা অন্যের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এক গ্লাস কাগজি লেবুর শরবত বা লেবুর পানি এই সমস্যা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে।

হার্ট ভালো রাখে:

কাগজি লেবু ভিটামিন “সি” এর খুব ভাল উৎস। আমরা জানি ভিটামিন “সি” যুক্ত যে কোনো খাবার হার্টের রোগ এবং স্ট্রোক এর ঝুঁকি কমায়। কাগজি লেবুর রস রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমান কমিয়ে দিয়ে হার্টকে ভালো রাখে।

ক্যান্সার ঝুঁকি কমায়:

গবেষণা করে দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত কাগজি লেবু খায় তাদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকে। টেস্ট-টিউব সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, সাইট্রাস ফলগুলি কোলন ক্যান্সার, গলার ক্যান্সার, অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

কাগজি লেবুর শরবতের কিছু সতর্কতা :

  • কেউ যদি দীর্ঘদিন ধরে লেবুর শরবত খায় তবে লেবুর শরবত খেয়ে কিছুক্ষন (২০-৩০ মিনিট) পর পানি দিয়ে কুলকুচি করা বা ব্রাশ করা দাঁতের এনামেল (দাঁতের টিস্যু) এর জন্য ভালো।
  • লেবুর বীজটা খুব একটা উপকারী নয়, তাই লেবুর শরবত তৈরীর সময় লেবুর বীজটা ফেলে দেওয়া ভালো।

আরও পড়ুন:

লেবু বা লেবুর শরবত কিডনি পাথর প্রতিরোধে, ত্বকের সৌন্দর্যে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দারুণ কার্যকরী।

Share