কাঁঠাল শক্তির উৎস এবং হার্ট ভালো রাখে। জেনে নিন কাঁঠালের আরও উপকারীতা।

আপনি কি পরিশ্রম করতে করতে ক্লান্ত ? আপনি কি দ্রুত হারানো শক্তি ফিরে পেতে চান ? তাহলে হাতে তুলে নিন কয়েক রোয়া পাঁকা কাঁঠাল। এটি শুধু আপনাকে শক্তির যোগান নয়, দেহের ভিতরের ফাংশন উন্নতির পাশাপাশি বাহির থেকে আপনাকে চমৎকার দেখাতে সহায়তা করে।

Nature is the ultimate provider of health solutions. প্রকৃতি আরোগ্যকর্তা হিসাবে যে সমস্ত miracle আমাদের উপহার দিয়েছে- সুস্বাদু, মিষ্টি ও মোহনীয় ঘ্রাণের কাঁঠাল তাদের মধ্যে একটি। কাঁঠাল এই আধুনিক যুগের বর্তমান সময়ের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যা যেমনঃ ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ওজন কমানো, রক্তচাপ, নার্ভ সিস্টেম সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিরাময়ে কাজ করে। উপরন্তু এটি ত্বককে সুন্দর ও লাবণ্যময় করে তোলে।

পুষ্টি গুনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। সুঘ্রাণ, সুমিষ্ট ও রসালো এই ফলটি ছেলে বুড়ো সবাই পছন্দ করে। কাঁঠালের প্রতিটি রোঁয়া যেন অমৃতের সমান। সাধারণত কাঁঠাল কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসাবে এবং পাঁকা অবস্থায় ফল হিসাবে খেয়ে থাকি। কাঁঠাল শুধু সুস্বাদু, রসালো ও সুমিষ্ট ফলই নয়, এর অনেক পুষ্টি উপাদানও রয়েছে।

রসালো এই ফলটিতে ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালোরি, ফাইবার, কার্বহাইড্রেট, প্রোটিন ও ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি পুষ্টি উপাদান রয়েছে। কাঁঠাল পাঁকার পরে এর রং তেমন একটা পরিবর্তন হয়না তবে, কিছু কিছু কাঁঠাল হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করে।

কাঁঠাল একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। ভারতীয় উপমহাদেশে বিশেষত বাংলাদেশ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে কাঁঠালের উৎপত্তি স্থান হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়, এবং পাবর্ত্য এলাকায়
কাঁঠালের চাষ বেশী। বাংলাদেশ, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণ ভারত, বিহার, মায়ানমার, মালয়, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি এলাকা ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও এরূপ ব্যাপকসংখ্যায় কাঁঠালের চাষ করতে দেখা যায় না। তবে ব্রাজিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জামাইকা প্রভৃতি দেশে সীমিত আকারে কাঁঠাল জন্মায়। ২-৩ রোঁয়া কাঁঠাল আমাদের এক দিনের ভিটামিন ‘এ’ এর চাহিদা পূরণ করে।

পুষ্টিগুণ:

কাঁঠাল পুষ্টি সমৃদ্ধ। এতে আছে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম এবং জিঙ্ক বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান। উল্লেখযোগ্য কিছু উপাদান নিচে দেওয়া হলো:

  • ক্যালরি:১৫৫
  • ফাইবার:৩ গ্রাম
  • প্রোটিন:৩ গ্রাম
  • ভিটামিন এ:১০%(RDI)
  • ভিটামিন সি:১৮%(RDI)
  • ম্যাগলেসিয়াম:১৫%(RDI)
  • পটাশিয়াম:১৪%(RDI)
  • কপার:১৫%(RDI)
  • ম্যাঙ্গানিজ:১৬%(RDI)

কাঁঠালের উপকারিতা

কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আমিষ, শর্করা ও ভিটামিন থাকায় তা মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারি। নিচে কাঁঠালের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

শক্তির উৎস কাঁঠাল:

কাঁঠালের ৪-৫ রোঁয়া থেকে ১০০ কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া শর্করা, ফ্রুক্টোজ ও সুক্রোজ রয়েছে, যা আমাদের শরীরে দ্রুত শক্তি বাড়ায়। একই সঙ্গে কাঁঠালে কোন কোলেস্টেরোল জাতীয় উপাদান নেই যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। সে কারণে এ ফলটিকে বেশ স্বাস্থ্যকর ফলের তালিকায় আমরা স্থান দিয়ে থাকি। কাঁঠালে চর্বির পরিমাণ নিতান্ত কম, ফলে ওজন বৃদ্ধির আশংকা কম। ১.৫ গ্রাম আঁশ আছে তাই এটা কোষ্ঠকাঠিণ্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

চোখ ভাল রাখে:

কাঁঠালে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-এ, যা আমাদের চোখের জন্য অপরিহার্য একটি পুষ্টি উপাদান। আপনারা হয়ত অনেকেই জানেন না যে, কাঁঠাল খাওয়ার অভ্যাসে দৃষ্টিশক্তি ভালো হয় এবং এটি আমাদের ত্বকের বলিরেখা বা ভাঁজ প্রতিহত করতে সক্ষম। যেহেতু, রসালো ফল কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, তাই এটি চোখের রেটিনা বা অক্ষিপটের ক্ষতি প্রতিহত করে থাকে।

হাড় মজবুত ও শক্ত করে:

আমরা জানি কাঁঠালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। এটি হাড়ের গঠন সুদৃঢ় ও মজবুত করে। এটি অস্টেওপরোসিস (osteoporosis) নামে হাড়ের ক্ষতিকর রোগ প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রনে:

রসালো ফল কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার, প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা সবই রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। আপনারা চাইলে ছয় মাস বয়সের পর থেকে মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে কাঁঠালের রস খাওয়ালে শিশুর ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্যদিকে তার প্রয়োজনীয় ভিটামিনের অভাব পূরণ হয়ে থাকে।

স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে:

পটাশিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস কাঁঠাল। ১০০ গ্রাম কাঁঠালে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩০৩ মিলিগ্রাম। যা আমাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। যার ফলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া কাঁঠালে থাকা বিপুল পরিমাণে খনিজ উপাদান ম্যাঙ্গানিজ যা রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

গর্ভবতী মায়ের খাবার:

চিকিৎসা শাস্ত্র মতে, প্রতিদিন ২০০ গ্রাম পাঁকা কাঁঠাল খেলে গর্ভবতী মহিলা ও তার গর্ভধারণকৃত শিশুর প্রায় সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়। গর্ভবতী মহিলারা নিয়মিত প্রতিদিন নিদিষ্ট পরিমাণে কাঁঠাল খেলে তার স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে এবং গর্ভস্থসন্তানের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হয়। দুগ্ধদানকারী মা যদি পাঁকা কাঁঠাল খায় তাহলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

কাঁঠালের অন্যতম উপযোগিতা হল ভিটামিন “সি”। প্রাকৃতিকভাবে মানবদেহে ভিটামিন “সি” তৈরি হয় না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাঁতের মাড়িকে শক্তিশালী করে ভিটামিন “সি”। পাশাপাশি সর্দি-কাশি,মতো সাধারণ নানা রোগকে প্রতিহত করে এই রসালো কাঁঠাল।

রক্তস্বল্পতা দূর করে:

কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন “এ”, “সি”,”ই”, “কে”, ফলেট, এবং ভিটামিন বি-৬। এছাড়াও আছে বিভিন্ন ধরণের মিনারেল সমৃদ্ধ উপাদান যেমনঃ কপার, ম্যাংগানিজ, ম্যাগনেসিয়াম যা রক্ত তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই এটি রক্তস্বল্পতা রোধে দারুণ কাজ করে থাকে। তাই যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্যে এই রসালো ফল কাঁঠাল উপকারি হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।

কাঁঠাল অনেক কারণে আমাদের জন্য খুবই ভাল। তাই কাঁঠালের মৌসুমে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কাঁঠাল থাকা উচিত। ভালো খাবার খান ভালো থাকুন। -এটাই কাম্য।

Share