আমিষ সমৃদ্ধ শিমের বীজ লিভারের জন্য ভালো ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

শিমের বীজ খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি খাবার। বাচ্চারাও এটা খুব পছন্দ করে। শুধু যে এটা বাচ্চাদের পছন্দ তা নয়। এটি বড়দেরও খুব পছন্দের। অনেকের হয়তো এমন অভিজ্ঞতা আছে যে, শিম রান্না করে রাখা হয়েছে আর বেছে বেছে শিমের বীজ গুলো খেয়ে ফেলেছেন। শিমের বীজের ডাল, মাছের ঝোলে শিমের বীজ বা তরকারিতে শিমের বীজ খুবই সুস্বাদু খাবার। ভালো করে রোদে শুকিয়ে বীজ থেকে খোসা আলাদা করে নিয়ে তারপর তেল ছাড়া ভাজুন। এটি ভাজতে ভাজতে লালচে কালার হয়ে আসলে নামিয়ে নিয়ে একটু ঠান্ডা করে খেতে পারে। এভাবে খেতে খুবই ভালো লাগে।

প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন এবং ভিটামিনের দুর্দান্ত উৎস শিমের বীজ। এছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ফোলেট রয়েছে। শিমের বীজে ২০ টি অ্যামিনো অ্যাসিড আছে। যার মধ্যে নয়টি আমাদের দেহের জন্য অপরিহার্য। শিম ভালো করে পেকে যাওয়ার পরে, শিম থেকে শিমের বীজ আলাদা ভালো করে রোদে শুকিয়ে অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

শিমের বীজ গর্ভবতী মায়েদের জন্য, হার্টের রোগীদের ও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং কোষ্ঠকাঠিন্নতা দূর করতে সহায়তা করে।

পুষ্টি উপাদান

পুষ্টি প্রোফাইল অনুযায়ী এক ধরণের শিমের সাথে অন্য ধরণের শিমের পুষ্টি প্রোফাইল আলাদা হয়।

  • প্রোটিন: ১৫ গ্রাম
  • ফ্যাট: ১ গ্রাম
  • কার্বহাইড্রেট:৪৫ গ্রাম
  • ফাইবার: ১৫ গ্রাম
  • আয়রন: ২০% (DV)
  • ক্যালসিয়াম: ৮% (DV)
  • ম্যাগনেসিয়াম: ২১% (DV)
  • ফসফরাস: ২৫% (DV)
  • পটাসিয়াম: ২১% (DV)
  • ফোলেট: ৭৪% (DV)

শিমের বীজের উপকারীতা

আমিষে ভরপুর শিমের বীজ ছোট থেকে বড় সবার জন্য নিরাপদ। নিচে শিমের বীজের উপকারীতা দেওয়া হলো;

আমিষের উৎস:

প্রোটিন বা আমিষ শিমের বীজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান যা দেহকে সুস্থ্য রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিমের বীজে দুই ধরণের প্রোটিনের উৎস: সম্পূর্ণ আমিষ এবং অসম্পূর্ণ আমিষ। শিম নিরামিষ ভোজীদের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারে। ১০০ গ্রাম শিমের বীজে আমিষ আছে প্রায় ২৫ গ্রাম।

গর্ভবতী মায়েদের জন্য ভালো:

শিমের মধ্যে ফোলেট সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান থাকে। ফোলেট স্বাস্থ্যের জন্য, সুস্থ্য লাল রক্তকণিকা তৈরি করতে এবং গর্ভাবস্থায় একটি ভ্রূণের নিউরাল টিউব ত্রুটি রোধে সহায়তা করে। ১৫৫ গ্রাম শিমের বীজে ৪৮২ মাইক্রোগ্রাম ফোলেট থাকে।

হার্ট এর স্বাস্থ্য:

নিয়মিত শিমের বীজ খাওয়ার অভ্যাস হার্ট অ্যাটাক বা অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা থেকে আমাদেরকে দূরে রাখতে পারে। অন্যান্য গবেষণা পরামর্শ দেয় যে শিমের পুষ্টি উপাদান কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। উচ্চ কোলেস্টেরল হার্টের রোগ এবং হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ। প্রমাণিত, উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাদ্য কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস:

শিমের বীজ রক্তে গ্লুকোজের স্তর স্থিতিশীল করতে বা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে পারে। এতে ফাইবার বেশি থাকে, যা রক্তের গ্লুকোজ হ্রাস করতে সহায়তা করে। ২০১৮ সালের এক পর্যালোচনার দেখা গেছে যে, উচ্চ ফাইবারযুক্ত ডায়েট টাইপ-2 ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

লিভারের জন্য ভালো:

যখন লিভারে ফ্যাট জমে বা চর্বি জমে যায় তখন এটাকে ফ্যাটি লিভার বলে। ফ্যাটি লিভার স্থূলত্ব, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও হজম প্রক্রিয়ার অন্যান্য সমস্যার জন্য দায়ী। কিন্তু শিমের বীজ ফ্যাটি লিভার জনিত সমস্যা থেকে দূরে রাখতে পারে।

অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো:

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, শিমের বীজ অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। শিমের বীজ অন্ত্রের সমস্যা দূর করে এবং উপকারী ব্যাকটিরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে। এটি অন্ত্রের বিভিন্ন ধরণের রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করতে এবং ওজন হ্রাস করতে পারে। শিমের বীজে প্রচুর ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে।

বয়সের ছাপ দূর করে:

গবেষণা অনুসারে, শিমে বা শিমের বীজ পলিফেনল সমৃদ্ধ। যা এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ফ্রি র‌্যাডিকালের সাথে লড়াই করে। এছাড়া শরীরের ফ্রি র‌্যাডিকেল অপসারণে সহায়তা করে। তাই শিমের বীজ জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার শরীরকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।

সতর্কতা:

কোন কোন ক্ষেত্রে গ্যাসের সমস্যা, পেটে ব্যথা হতে পারে শিমের বীজ খেলে। এর কারণ শিমের মধ্যে র‌ফিনোজ থাকে, এটি এক ধরণের ফাইবার। যা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই খাওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

Share