আপেল জুস ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়, পানিশূন্যতা দূর করে ও শক্তি বৃদ্ধি করে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর আপেল। আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন “সি”, ভিটামিন “এ” এবং ভিটামিন “ই”। আবার এর মধ্যে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিএন্টস। যা কিনা হার্টের রোগ এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে।

আপেল মূলত তার মিষ্টি স্বাদের জন্য জনপ্রিয়। সারা পৃথিবীব্যাপী আপেলের চাষ হয়ে থাকে। আপেল সম্পর্কে একটা প্রবাদ আছে যে দিনে একটি আপেল খান, রোগ মুক্ত জীবন পান। লাল আপেলের চেয়ে সবুজ আপেলের গুণ বেশি।

আপেলের পাশাপাশি আপেলের জুসও বেশ জনপ্রিয়। আপেলের জুস একাধিক উপকার সহ স্বাস্থ্যকর ফলের পানীয় হিসাবে বিবেচিত। এই বহুমুখী ফলের রসটিতে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত।

আপেলের রস আপনার শরীরকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। অনেকে আপেল আস্ত খাওয়ার চেয়ে আপেলের রস পান করতে পছন্দ করেন। এই রসে উচ্চমাত্রার পানি হাইড্রেশনের একটি ভাল উৎস হিসাবে কাজ করে।

এই সুস্বাদু জুসটিতে অ্যান্টি-ক্যান্সার, অ্যান্টি-অ্যালার্জি এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রভাব সহ পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে। আপেলের জুস হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, হাঁপানির লক্ষণগুলি কমাতে পারে, ওজন হ্রাসে সহায়তা করে এবং নির্দিষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে পারে।

আপেলের জুসের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান

নিচে আপেলের জুসের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান দেওয়া হলো

  • পানি: ৮৮% গ্রাম
  • ক্যালোরি: ১১৪
  • কার্বোহাইড্রেট: ২৫ গ্রাম
  • প্রোটিন: ০.২৪ গ্রাম
  • সুক্রোজ: ৩.১২ গ্রাম
  • ভিটামিন “সি”: ১৪%
  • পটাসিয়াম: ৬%
  • ভিটামিন “কে”: ৫%

আপেল জুসের উপকারিতা

আপেল জুসের চমকে দেওয়ার মতো উপকারিতা ও স্বাস্থ্য সুবিধা নিচে দেওয়া হলো-

পানিশূন্যতা দূর করে:

পানিশূন্যতার কথা ভাবলেই, প্রথমে যে বিষয়টি মনে আসে তা হল পানি। কার্যকরভাবে এবং সঠিকভাবে পানিশূন্যতা দূর করার জন্য ইলেক্ট্রোলাইটের প্রয়োজন হয়। পানির মধ্যে যদি খনিজ উপাদান থাকে তখন তাকে ইলেক্ট্রোলাইট বলা হয়।

আপেলের জুসে ৮৮% পানি এবং এতে রয়েছে ভিটামিন এবং মিনারেলস তাই এটি একটি ইলেক্ট্রোলাইট পানীয়। তাই আপেলের রস বা আপেলের জুস পানিশূন্যতা দূর করার পাশাপাশি শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে পারে।

হার্ট ভালো রাখে:

আপেল হল পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড জাতীয় উদ্ভিদ যৌগের দুর্দান্ত উৎস যা হৃদরোগের জন্য উপকারী। এছাড়া আপেলের রস পটাসিয়াম সমৃদ্ধ। যা খাওয়ার ফলে রক্তের সিরামের লিপিড পারক্সিডেশন এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের অবস্থার উন্নতি ঘটে।

পটাসিয়াম হল একটি ভাসোডিলিটর যা রক্তনালীর উপর চাপ কমিয়ে এবং রক্তচাপ হ্রাস করতে সহায়তা করে। যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়:

ফ্লেভোনয়েডস এবং পলিফেনল টিউমার ও ক্যান্সারজনিত কোষগুলির বিকাশ রোধে কার্যকর হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সারের সম্ভাবনা প্রায় ২৩% কমে। কারণ আপেলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনল থাকে।

আপেলের মধ্যে ট্রিটারপেনয়েডস উপাদান লিভার, স্তন এবং কোলোনের মধ্যে ক্যান্সারের কোষ বেড়ে উঠতে বাঁধা দেয়। তাছাড়া এক গবেষণা থেকে জানা যায় যে, আপেলের মধ্যে যে পরিমাণে ফাইবার থাকে, তা মলাশয়ের ক্যান্সার রোধে সাহায্য করে।

ওজন কমায়:

আপনি যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে মোটা হয়ে যান, শরীরে যদি অতিরিক্ত মেদ জমতে থাকে বা উচ্চতানুযায়ী আপনার ওজন বেড়ে যায় তবে নিয়মিত আপেল জুস খেলে আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমে যাবে।

ফলটিতে উপস্থিত পেকটিন নামক ফাইবার কোনও ক্যালরি ছাড়াই পেট ভরাতে সাহায্য করে এর ফলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যারা ওজন কমাতে চান তারা দৈনিক তিনটি আপেল খেলে ভালো ফল পাবেন।

দেহে শক্তি বৃদ্ধি করে:

আপেল জুসে রয়েছে ভিটাইন “এ”, ভিটামিন “সি”, ভিটামিন “ই”, এবং ভিটামিন “কে”। তাই এতসব উপাদান একই সঙ্গে আপেল জুসে থাকায় তা আপনার শরীরের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে:

আপেল জুস লিভার ও কিডনি থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য দূর করে লিভার ও কিডনিকে রাখে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। এছাড়া কিডনি ও লিভারের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে আপনার পরিপাকের কাজকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করে তোলে।

এছাড়া যাদের হজমে সমস্যা এবং নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাতে ভুগছেন তারা নিয়মিত এক গ্লাস আপেল জুস খেতে পারেন। আপেলে পেকটিন ফাইবার রয়েছে যা প্রিবায়োটিক হিসাবে কাজ করে পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে।

ত্বক ভালো রাখে:

আপেলের জুস প্রতিদিন পান করা আপনার ত্বকের জন্য খুব ভালো। আপেলের জুস অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলির সাথে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন “সি”, যা ফ্রী র‌্যাডিক্যাল ক্রিয়াকলাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। র‌্যাডিকাল ক্রিয়াকলাপ আপনার ত্বককে নিস্তেজ করে তুলতে পারে এবং ত্বক কুঁচকে যাই ও বার্ধক্যের ছাপ ফেলে। আপেলের জুসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি উপস্থিত একটি যুবকোচিত এবং উজ্জ্বল ত্বক গঠনে সহায়তা করতে পারে।

আপেলের জুসে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন “সি” এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। প্রচুর পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আপেল আমাদের দেহে পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন “এ” এবং কপার আমাদের ত্বক, চুল এবং দেহের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।

স্মৃতিশক্তি প্রখর করে:

আপেলের জুস মস্তিষ্ককে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আপেল জুস খেলে বৃদ্ধ বয়সে কোন কিছু ভুলে যাওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে এই জুস আপনার স্মৃতিশক্তি আরও বৃদ্ধি করে দেয়।

মস্তিষ্কে বিটা-অ্যামাইলয়েড প্রোটিনের বৃদ্ধি দমন করে, যা আলঝাইমার রোগে মস্তিষ্কের ক্ষতির কারণ। আলঝাইমার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ১ মাস ধরে প্রতিদিন ১ কাপ আপেলের রস পান করেন, এতে তাদের মানসিক লক্ষণগুলি ২৭% পর্যন্ত উন্নত হয়।

সতর্কতা:

ওজন বাড়াতে অবদান রাখতে পারে আপেলের জুস। আপেলের জুসে ক্যালোরি বেশি থাকে। এছাড়া এতে ভিটামিন ও মিনারেল কম থাকে খোসা সহ আপেলের তুলনায়। চিনি বেশি ফাইবার কম, মুখের ব্যাকটিরিয়া আপেলের জুসের মধ্যে শর্করা গ্রহণ করে এবং অ্যাসিড তৈরি করে যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে।

তাছাড়া আপনি যদি জটিল কোনো রোগে আক্রান্ত হন বা অন্য কোনো কারণে রেগুলার কোনো মেডিকেল কোর্স-এর মধ্য দিয়ে যান তাহলে অবশ্যই খাওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

রেফারেন্স:

Share