অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগের লক্ষণ।

আমাদের বৃহদান্ত্র ফাঁপা নলের মতো। বৃহদান্ত্রের তিনটি অংশ। বৃহদান্ত্রের তিনটি অংশের মধ্যে প্রথম অংশ হচ্ছে সিকাম। এই সিকামের সাথে ছোট একটি আঙ্গুলের মত দেখতে প্রবৃদ্ধি হল অ্যাপেন্ডিক্স।

বৃহদান্ত্র ও ক্ষুদ্রান্ত্রের সংযোগস্থলে বৃহদান্ত্রের সঙ্গে যুক্ত একটি ছোট থলির মতো অঙ্গ থাকে। যাকে অ্যাপেন্ডিক্স বলা হয়। আমাদের দেহে এই অঙ্গের তেমন কোনো কাজ নেই। তবে বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এই অঙ্গটি প্রাণঘাতী। আর অ্যাপেন্ডিক্সের এ সমস্যাটি অ্যাপেন্ডিসাইটিস নামে পরিচিত।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগের লক্ষণ:

পেট ব্যথা:

অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগের প্রধান লক্ষণ হল পেটে একটানা ব্যথা, যেটা ক্রমশ বাড়তে থাকে। তলপেটের একটু ডান দিকে ব্যথা হয়। তলপেটে হাত দিলেই শক্ত ও ব্যথা অনুভূত হয়।

কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া:

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া হতে পারে। ডায়রিয়ার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যতাও হতে পারে। কোনো কোনো রোগীর কোষ্ঠকাঠিন্য হয় আবার কোনো কোনো রোগীর ডায়রিয়া হয়।

বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া:

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে রোগীর বমি হতে পারে। বার বার বমি বমি ভাব অনুভব হতে পারে বা বমিও হতে পারে। যখন পেট ব্যথা বেশি করে সাধারণত তখন বমি হয়।

জ্বর হতে পারে:

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে রোগীর জ্বর হতে পারে। তবে এই জ্বরের শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি হয় না। আবার এই জ্বর শরীরে সব সময় থাকে না। মাঝে মাঝে আসে আবার হুট করেই চলে যায় জ্বর। জ্বর চলে গেলে শরীরে ঘাম হতে পারে।

ক্ষুধামন্দা হতে পারে:

অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগের আরেকটি লক্ষণ হল ক্ষুধামন্দা হওয়া। এছাড়া খাবার খাওয়ার রুচি করে যায়। কোনো খাবারই মুখে ভালো লাগে না। ক্ষুধামন্দার পাশাপাশি খাবার হজমের ক্ষমতা কমে যায়। হজম ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়।