অতিরিক্ত কফি খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কি?

বর্তমানে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যারা কফি নামটির সাথে অপরিচিত। কফি খুবই জনপ্রিয় ও উপকারী একটি। কফি পানের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এই পানীয় যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্করা সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য, দিনের বেলা তরতাজা থাকার জন্য বা গভীর রাত্রে জেগে থাকার জন্য পান করে।

কফি খেতে অনেক সুস্বাদু এবং তৈরি করাও অনেক সহজ। কফি পান করা যেমন উপকারী তেমনি অতিরিক্ত কফি পানও ক্ষতিকর। প্রতিটি জিনিসের যেমন ক্রিয়ার বিপরীতে প্রতিক্রিয়াও রয়েছে, তেমনি অতিরিক্ত পরিমানে কফি পান করলেও তা শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ঘটায়।

অতিরিক্ত কফি পান করলে শরীরের ওপর হরমোনের চাপ বৃদ্ধি করে। এতে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বাড়ে। তাই কফি পরিমিত পান করা উচিত। দিনে প্রায় ৩-৪ কাপের বেশি কফি পান করা যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অর্লিয়েন্স’য়ে অবস্থিত ‘জন অকশনার হার্ট অ্যান্ড ভাস্কুলার ইন্সটিটিউট’য়ের ৪০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে ৪ কাপের বেশি কফি খাওয়ার কারণে অংশগ্রহণকারীদের শরীরের বিভিন্ন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

কফিতে থাকা ক্যাফিনের উচ্চ মাত্রায় গ্রহণ বিপদজ্জনক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। অতিরিক্ত কফি খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো –

মানসিক অস্থিরতা:
চার কাপের বেশি কফি পান করলে দিনে ৫০০ মি.লি. গ্রামের বেশি ‘ক্যাফেইন’ গ্রহণ করা হবে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এত উচ্চমাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ করলে মানসিক চাপ, অস্থিরতা, হতাশা সবই বাড়বে।

ঘুমের সমস্যা:
ঘুমের স্বাভাবিক নিয়মে ব্যাঘাত ঘটাবে অতিরিক্ত কফি পানের অভ্যাস। কফিতে থাকা ক্যাফিনের মানুষকে জেগে থাকতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত কফি গ্রহণ ঘুম কমিয়ে দেয়। একটি গবেষণায় গবেষকরা ১২ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ককে ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফিন দিয়েছেন ঘুমানোর ছয় ঘণ্টা আগে, দেখা গেছে তাদের রাত জেগে কাটানোর সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

হজমের সমস্যা হয়:
সহজ কথায় কোষ্টকাঠিণ্যতা দেখা দেয়। সকালের ১ কাপ কফি অন্ত্রকে সচল করতে সাহায্য করে। কফির রেচক প্রভাব গ্যাস্ট্রিন নিঃসরণের জন্য দায়ী। এটি পেটে একটি হরমোন তৈরি করে যা কোলনের কার্যকলাপে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত কফি পানে ডায়রিয়া হতে পারে এবং কোষ্টকাঠিণ্যতা দেখা দিতে পারে।

হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে যাওয়া:
ব্রাজিলের গবেষকদের করা গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, এক থেকে পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে ১০০ মি.লি. গ্রাম কফি গ্রহণের পর অংশগ্রহণকারীদের হৃদস্পন্দনের গতিতে কোনো পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। তবে এরও বেশি মাত্রায় কফি পান করলে হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক গতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

শরীরে কাঁপুনি:
অতিরিক্ত কফি পান করার ফলে হাত কিংবা পুরো শরীরে কাঁপুনি অনুভব করতে পারেন। সেই সঙ্গে দেখা দিতে পারে মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা এবং হৃদস্পন্দন প্রচণ্ড বেড়ে যাওয়া। এই অবস্থায় তৎক্ষণাত কফি পান বন্ধ করতে হবে।

ঘন ঘন প্রস্রাব:
মূত্রাশয়ের উপর খারাপ প্রভাব পরে উচ্চ ক্যাফিন গ্রহণের কারণে। আপনি হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে যখন আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কফি বা চা পান করেন তখন ঘন ঘন প্রস্রাব করতে হয়। এক গবেষণায়, ১২ জন বয়স্ক থেকে মধ্যবয়সী মানুষ যারা দৈনিক ২ মিলিগ্রাম ক্যাফিন গ্রহণ করেন প্রতিদিন তাদের মূত্রনালীর ফ্রিকোয়েন্সি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পায়।

চিনির সঙ্গে আত্মীয়:
যদিও অনেকে চিনি ছাড়া কফি পান করেন। তবে কফির সঙ্গে কেক, বিস্কুট বা সকালের নাস্তার অনেক পদেই থাকে চিনি। সবমিলিয়ে দেখা যায়, সারা দিনে হয়তো ১১ টেবিল চামচ চিনি খাওয়া হয়ে যাচ্ছে। তাই যারা ওজন কমানোর চেষ্টায় আছেন, তাদের চেষ্টা তখন বিফলে যাবে।

ক্লান্তি:
অবসাদ বা ক্লান্তি কাটাতে যে কফির সাহায্য নিচ্ছেন, অতিরিক্ত পান করলে সেই কফিই ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ কফি সাময়িক সময়ের জন্য শরীর চাঙা করে ঠিক। তবে অতিরিক্ত পান করলে তা শরীরের ওপর যে প্রচণ্ড ধকল দেবে সেটাই ক্লান্তি সৃষ্টি করে।

উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি করে:
কফিতে থাকা ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রের উপর উদ্দীপক প্রভাবের কারণে বেশ কয়েকটি গবেষণায় রক্তচাপ বাড়াতে দেখা গেছে। উচ্চ রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণ।

সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফিন প্রয়োজন। কিশোর -কিশোরীদের প্রতিদিন ১০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। এবং গর্ভবতী মহিলাদের দৈনিক ২০০ মিলিগ্রামের কম ক্যাফিন গ্রহণ করা উচিত।